জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সরোয়ার জাহানের (এফপিআই) বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে সরোয়ার জাহানকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। ওই দিনের হাজিরা খাতাতেও তার কোনো স্বাক্ষর দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরোয়ার জাহান প্রথমে বলেন, ‘‘আমি অফিসে গিয়েছিলাম, স্বাক্ষর করে মাঠে এসেছি।’’ হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর নেই জানানো হলে তিনি বলেন, ‘‘অফিসে আসছি।’’ পরে আবার ফোন করা হলে তিনি জানান, অসুস্থ থাকায় সেদিন অফিসে যেতে পারবেন না।
একই বিষয়ে তার বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাইফুল ইসলাম (অফিস সহায়ক/নিরাপত্তাকর্মী) ও মর্জিনা সরকার (আয়া)কে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তবে ওই সময় সরোয়ার জাহান কর্মস্থলে ছিলেন না।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা এক রোগী বলেন, ‘‘সরোয়ার জাহান এখানে পরিদর্শক হিসেবে আছেন বলে জানি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে আমি চিনিই না। কারণ তাকে কখনো অফিসে বসে থাকতে দেখিনি।’’
স্থানীয় শফিক মিয়া বলেন, ‘‘ওষুধের সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার পর থেকেই সরোয়ার সাহেবকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। তিনি ঠিকমতো অফিস করেন না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।’’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, সরোয়ার জাহান নিজের ইচ্ছামতো কর্মস্থলে আসেন এবং চলে যান। অনেক সময় অফিসে এসে বেশিক্ষণ থাকেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন বছর ধরে তার কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি তারা লক্ষ্য করছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হাজিরা খাতা, উপস্থিতি রেজিস্টার ও দায়িত্ব পালনের সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এই বাংলা/এমএস