শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগের পর চিলমারী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা ৫ দিন ধরে অনুপস্থিত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা পুতুল চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত পাঁচ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার খবর পাওয়া গেছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নদীবন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম তায়েফকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ২০১৯ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একটি প্যাডের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে পুতুল চন্দ্র রায়কে ‘স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমালোচনা এড়াতেই তিনি কর্মস্থলে আসছেন না।

এর আগে ২০২২ সালের ১৭ মে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে পুতুল চন্দ্র রায়ের বিরূপ আচরণের অভিযোগ উঠেছিল।

কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে পুতুল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘চিলমারীর মানুষের সঙ্গে আর দেখা হবে না।’ বদলি হয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না, আপনারা জেনে নেন।’

চিলমারী উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বকুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতুল চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, সেগুলো যাচাই করা প্রয়োজন। একজন সরকারি কর্মকর্তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।

চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুল হক অভিযোগ করে বলেন, পুতুল চন্দ্র রায় আগের সরকারের সময় সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, বন্দরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুতুল চন্দ্র রায়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে চিলমারী বন্দরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পোর্ট কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম তায়েফ বলেন, বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলছে। আগামী সপ্তাহে তিনি নিজে চিলমারীতে গিয়ে পরিস্থিতি তদারকি করবেন।

পুতুল চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পরিচয়, কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর