নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দৈনিক সংবাদের সোনারগাঁ প্রতিনিধি মাহবুবুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁয়ের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক ইমরান হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার প্রধান, হাসান মাহমুদ রিপন, আবু বকর সিদ্দিক, শাহাদাত হোসেন রতন, রবিউল হুসাইন, ফরিদ হোসেন, মশিউর রহমান ও কামরুজ্জামান রানা। এ ছাড়া খেলাঘর সোনারগাঁ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক লায়ন রাজা রহমান, আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে সোনারগাঁ প্রেস ক্লাব, সোনারগাঁ রিপোর্টার্স ক্লাব, সোনারগাঁ থানা প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা দাবি করেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম সুমনকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা দ্রুত মামলাটি পর্যালোচনা করে সাংবাদিক সুমনের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জৈনপুর থেকে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এবং মূলত হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত। অভিযোগ রয়েছে, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ভারী যানবাহন নিয়মিত চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে গত মে মাসে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাক সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা বাধা দেন। এ সময় কোম্পানির ঠিকাদার আবু সাঈদের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয়দের ওপর হামলা করেন। এতে সাতজন আহত হন বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে কোম্পানি ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে পৃথক অভিযোগ করা হয়। তবে কোম্পানির পক্ষের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। ওই মামলায় সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম সুমনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান বক্তারা।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো কোম্পানির কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা মামলার বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে সাংবাদিক সুমনের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এই বাংলা/এমএস