বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে আনা ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। কর্তৃপক্ষের ধারণা, শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িগুলোকে বিভিন্ন অংশে কেটে যন্ত্রাংশ হিসেবে চালানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। জব্দ করা গাড়িগুলোর সম্ভাব্য বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ জুলাই চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পরে চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হলে আমদানির ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

ঢাকার গেন্ডারিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে চালানটি আমদানি করে। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪ অনুযায়ী, চালানটিতে ১৬৪টি প্যাকেজে ১৪ ধরনের পণ্য থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, এগুলো সাধারণ গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ নয়; বরং চারটি বিলাসবহুল গাড়িকে বড় বড় অংশে বিভক্ত করে আনা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চালানটির ঘোষিত ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। তবে প্রাথমিক হিসাবে গাড়িগুলোর প্রকৃত মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গাড়িগুলো এমনভাবে কাটা হয়েছে, যাতে পুনরায় সংযোজন করলে সেগুলোর মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত পরীক্ষায় গাড়িগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ, বিভিন্ন সেন্সরসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অক্ষত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধের চেষ্টা করেছিল। পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে আমদানি করা হলে এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল।

জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। বর্তমানে গাড়িগুলোর প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও উৎপাদনকাল বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত শুল্ক-কর নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় আমদানি করা হলেও যদি তাতে মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বা ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বজায় থাকে, তাহলে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। সেই বিবেচনায় চারটি গাড়িকে শুধু যন্ত্রাংশ হিসেবে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসটি ইন্টারন্যাশনাল ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা মনে করছেন, যন্ত্রাংশের আড়ালে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি আমদানির এ ধরনের কৌশল সরকারি রাজস্ব ফাঁকির একটি গুরুতর চেষ্টা। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বন্দরে নজরদারি ও পণ্যের কায়িক পরীক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর