রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

বৈধ বরাদ্দের দোকানিকে হুমকি দিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে টিপসই নেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ রেলওয়ের বৈধ বরাদ্দ পাওয়া এক চা দোকানিকে আটকে রেখে দোকান ভাঙচুর ও মারধরের হুমকি দিয়ে তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক টিপসই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাহাঙ্গীর মাস্টার হলিদাগাছি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, চারঘাট শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং বিএনপির চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী দীন মোহাম্মদ চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামের মৃত সেফাত মন্ডলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলিদাগাছি রেলগেট এলাকায় টিনের ছাপড়া দোকানে চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

প্রাপ্ত নথি ও তথ্যসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই হলদিগাছি মৌজার জেএল নং-১৪, দাগ নং-১৮৫-এর অন্তর্ভুক্ত ১০×১০ অর্থাৎ ১০০ বর্গফুট জায়গা দীন মোহাম্মদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। দীন মোহাম্মদের দাবি, তিনি প্রায় ৮–৯ বছর ধরে ওই এলাকায় চা বিক্রি করছেন।

দীন মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে বাজারের নাইটগার্ডের মাধ্যমে রাত সোয়া ১১টার দিকে জাহাঙ্গীর মাস্টার তাকে বৃষ্টির মধ্যে নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠান। সেখানে গিয়ে তিনি আরও ১০–১৫ জন লোককে দেখতে পান।

তার অভিযোগ, রেলের জায়গায় দোকান বসানোর বিষয়টি তুলে জাহাঙ্গীর মাস্টার তার কাছে নিয়মিত মাসিক ভাড়া দাবি করেন। দীন মোহাম্মদ নিজের বৈধ বরাদ্দের কথা জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং দোকান ভাঙচুর ও শারীরিক নির্যাতনের হুমকি দেন। একপর্যায়ে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তিনটি ১০০ টাকার ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার টিপসই নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাকে দোকান থেকে চলে যেতে বলা হয়। স্ট্যাম্পগুলোতে পরবর্তীতে কী লেখা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঘটনার পর দীন মোহাম্মদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান এবং প্রতিকার দাবি করেন। তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মাস্টারের বিরুদ্ধে রেলস্টেশন এলাকার ক্ষুদ্র দোকান থেকে চাঁদা ও ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তাদের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি মাদক কারবার, পুকুর দখল, সালিশে পক্ষপাতিত্ব এবং মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চারঘাট থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল অভিযোগ করে বলেন, জাহাঙ্গীর মাস্টার বিভিন্ন দোকানপাট ও স্থাপনা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় এবং দখল বাণিজ্যে জড়িত। তার দাবি, এর আগে জাহাঙ্গীর মাস্টার দলবল নিয়ে তার বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর করেছিলেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, দীন মোহাম্মদ নামে কারও পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর