শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

ডিমলা খাদ্য গুদামে অনিয়মের অভিযোগ, দুই কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ

ডিমলা (নীলফামারী)প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ ও খাদ্য কর্মকর্তা নবাব আলী

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা খাদ্য গুদামে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আকস্মিক পরিদর্শন করেছে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত দল। পরিদর্শনে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়ার পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ ও খাদ্য কর্মকর্তা নবাব আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মামুনুর রশীদকে চট্টগ্রাম বিভাগের সন্দ্বীপে এবং নবাব আলীকে বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের তদন্ত দল আকস্মিকভাবে ডিমলা খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে যায়। এ সময় গুদাম থেকে একটি ট্রাকে চাল তোলার দৃশ্য দেখতে পায় তদন্ত দল। পরে চালগুলো আটকে গুদামেই সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে গুদামের মজুত, নথিপত্র, ধান-চাল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ড যাচাই করেন তদন্ত দলের সদস্যরা।

গুদাম সূত্রে জানা যায়, ট্রাকে থাকা চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডিলার রতন কুমারের জন্য বরাদ্দ ছিল বলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দাবি করেন। তবে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের অভিযোগ, চাল সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট। সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও চাল ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে গুদামের ৩৭ জন ডিলার অভিযোগ করেছেন, গত আগস্টে বড় বস্তায় চাল নেওয়ার জন্য ডিলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এছাড়া চালের ওজন কম দেওয়া, চিকন চাল বাইরে বিক্রি করে নিম্নমানের চাল কেনা, মাস্টাররোলে কর্মচারী নিয়োগ ও ছাঁটাই এবং সরকারি বস্তা ব্যবহারে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

শুধু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নয়, বোরো ধান সংগ্রহেও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত দল। গুদামের এক শ্রমিকের অভিযোগ, একটি রাইস মিল থেকে বিপুল পরিমাণ ধান সংগ্রহ করে পরে তা সরকারি গুদামে উত্তোলন দেখানো হয়েছে। এতে শ্রমিক হিসেবে তারা প্রাপ্য লেবার কস্ট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দার বলেন, ‘ডিমলা খাদ্য গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি মহাপরিচালককে জানিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। তাঁর নির্দেশে গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ওই দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।’

দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় ডিমলা খাদ্য গুদাম এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে সরকারি খাদ্যশস্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর