শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

শিবগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হামলার শিকার গনমাধ্যম কর্মী মোঃ শহিদুল ইসলাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে মো. শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—মো. আনরুল ইসলাম পাতানু (৪৫), মো. ইসমাইল হোসেন (২৭), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে কালু (২৮), মো. জাহাঙ্গীর (৩২) ও মো. মাসুদ (২২)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শিবগঞ্জ থানার ৩ নম্বর দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের মফিজ বাজার এলাকায় একটি মুদি দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাকে ঘিরে ফেলেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামির নির্দেশে অন্যরা লাঠি, লাদনা ও লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আরিফুল ইসলাম ওরফে কালু লোহার রড দিয়ে শহিদুল ইসলামের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তার হাতেও আঘাত লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগের আরও গুরুতর অংশে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত দুই হাত দিয়ে শহিদুল ইসলামের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং সেখানে চিকিৎসা নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শহিদুল ইসলামের দাবি, তিনি গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের কাজ করায় তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। এ কারণে ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয় নয়, বরং একজন সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।

এজাহারে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং প্রয়োজন হলে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্য দিতে পারবেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী, তার পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগে যেসব ঘটনা ও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও জানান তিনি।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর