টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজের ১৫ দিন পার হলেও সন্ধান মেলেনি আট বছর বয়সী শিশু আশরাফুলের। সন্তানকে ফিরে পেতে মা ইতি বেগমের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। দীর্ঘ সময়েও ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের।
নিখোঁজ আশরাফুল নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের পার ধল্লা গ্রামের মো. আয়নাল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট শনিবার বিকেলে খামার ধল্লা খেলার মাঠের কাছ থেকে নিখোঁজ হয় আশরাফুল। ওই দিন আশরাফুলের বাবা-মা মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তার সঙ্গে বড় বোন মুক্তা ছিল। বিকেলে আশরাফুল খামার ধল্লা মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে যায়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন।
পরে আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নাগরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আশরাফুলের চাচা আরজু মিয়া ১ আগস্ট থানায় জিডিটি করেন। জিডি নম্বর ৪০।
আশরাফুলের মা ইতি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে কোথায় আছে জানি না। ১৫ দিন ধরে তাকে খুঁজছি। আমার সন্তানকে যে করেই হোক আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।”
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক যুবক আশরাফুলকে কিছু খাওয়ানোর কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে। এরপর থেকেই তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শিশুর সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. ফারুক খান বলেন, “পরিবারটি খুবই অসহায়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। শিশুটিকে দ্রুত খুঁজে বের করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিখোঁজ আশরাফুলের সন্ধানে পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করছে। সন্দেহভাজনদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
শিশুটির পরিবার দ্রুত আশরাফুলকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।
এই বাংলা/এমএস