সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ে দুই স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৪, পাস করেনি একজনও

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটির মোট চার পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি হলো—বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর মধ্যে প্রথম প্রতিষ্ঠান থেকে একজন এবং দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই বিদ্যালয়ের চার পরীক্ষার্থীর কেউই এবার পাস করতে পারেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সরেজমিনে বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী থাকার কথা থাকলেও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ছিল খুবই কম। দুপুরে সেখানে প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীকে দেখা যায়। এ সময় তিনজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১০ জন শিক্ষক এবং পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। তবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো সাইনবোর্ডও দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ললিতা রাণী বলেন, এবার তাদের বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে সে অকৃতকার্য হয়েছে। তার ভাষ্য, ওই শিক্ষার্থী পড়াশোনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল।
অন্যদিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পাশের টিনের ঘরটিরও দরজা-জানালা ও বেড়া ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কেও উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় দুটি নন-এমপিওভুক্ত। প্রতিষ্ঠান দুটিতে নিয়মিত পাঠদানের ধারাবাহিকতা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর