বাবাকে হারানোর শূন্যতা আজও কাটেনি বলে আবেগাপ্লুত হয়ে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা ফজলুর রহমান পটলের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাবাকে স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, ‘আমার বাবা শুধু আমাদের পরিবারের অভিভাবক ছিলেন না, তিনি ছিলেন নাটোরের অসংখ্য মানুষের আপনজন।’ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করাকে তাঁর বাবা রাজনীতির দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের ভালোবাসাকেই ফজলুর রহমান পটল জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখতেন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জনসম্পৃক্ততা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
লালপুর উপজেলা ও গোপালপুর পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও দীর্ঘদিনের অনুসারীরা স্মৃতিচারণ করে ফজলুর রহমান পটলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনর রশীদ পাপ্পু। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটলের ছোট ছেলে ইস্তেখার আরশাদ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ডিউট, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য তরিকুল ইসলাম টিটু, বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক নেকবর হোসেন এবং গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ফজলুর রহমান পটলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা জানান, ফজলুর রহমান পটল চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের পর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৪৯ সালের ২৪ এপ্রিল লালপুরের গৌরীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফজলুর রহমান পটল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৭৮ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দলের প্রচার সম্পাদক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।
জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রী হিসেবে আজিমনগর রেলস্টেশন ভবন, লালপুর যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন বক্তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার রবীন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফজলুর রহমান পটল।
মৃত্যুর এক দশক পর আয়োজিত স্মরণসভায় স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এবং আবেগঘন স্মৃতিচারণে উঠে আসে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায়।
এই বাংলা/এমএস