কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বন্যা ও নদীভাঙনকবলিত মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল অবশেষে বিতরণ শুরু হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও দীর্ঘদিন আটকে থাকা এসব চাল গত মঙ্গলবার ও বুধবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত জুনে দুই দফা বন্যায় নাগেশ্বরী উপজেলার নদ-নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ২৯ জুন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্রুত এসব চাল দুর্গত মানুষের মধ্যে বিতরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ ওঠে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও বরাদ্দের চাল দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। এমনকি বন্যাকবলিত নয়—এমন দুটি ইউনিয়নে চাল উপবরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোদাদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। সন্তোষপুর ইউনিয়নের প্রশাসক ফিরোজ কবীর ও রামখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীনের নামে ওই চাল উপবরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে ইউএনও খোদাদাদ হোসেন বদলি হয়ে যান। পরে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন যোগ দেন।
যোগদানের পর তিনি বরাদ্দের ৩০ মেট্রিক টন চাল বন্যা ও নদীভাঙনকবলিত নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে পুনর্বণ্টন করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চাল বিতরণ শুরু হয়।
কেদার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখম ওয়াজিদুল কবির রাশেদ বলেন, বুধবার সকাল থেকে তাঁদের ইউনিয়নে বরাদ্দ পাওয়া তিন মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাঁদের ইউনিয়নে ছয় মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার তা বিতরণ করা হয়েছে।
কচাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাদৎ হোসেন জানান, তাঁদের ইউনিয়নে তিন মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে।
রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আরিফুজ্জামান দীপ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বরাদ্দের চাল বিতরণ করা হবে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য এসব চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুই-তিন দিন ধরে বিতরণ কার্যক্রম চলছে। আরও এক-দুই দিন এ কার্যক্রম চলবে।
এই বাংলা/এমএস