শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

নলডাঙ্গায় প্রতিবেশীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ধর্ষণ, মানহানি ও প্রাণনাশের হুমকির দাবি

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি :


নাটোরের নলডাঙ্গায় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে গুরুতর অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন। অপর পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে মানহানি, মিথ্যা অপপ্রচার ও হুমকির অভিযোগে থানায় পাল্টা লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই নলডাঙ্গা উপজেলার গাংপাড়া এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৩৫) একই এলাকার মৃত আকবর আলী সরকারের ছেলে মো. বাবর আলী বাচ্চু (৪৫)-এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

রবিউল ইসলামের অভিযোগে বলা হয়, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে তার স্ত্রী মোছা. রাখি খাতুনকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন বাবর আলী বাচ্চু। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং স্ত্রীকে তালাক দিতে চাপ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। অভিযোগে সৌমিক, সৌকত ও রিয়াদকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ৪ জুলাই নলডাঙ্গা থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগ দেন বাবর আলী বাচ্চু।

তার অভিযোগে বলা হয়, রবিউল ইসলাম কয়েকদিন ধরে এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। তাকে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী এবং রবিউলের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত বলে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বাবর আলী বাচ্চুর অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ জুলাই সকাল ৯টার দিকে নলডাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে তিনি এসব অপপ্রচারের কারণ জানতে চাইলে রবিউল ইসলাম তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

পাল্টা অভিযোগে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাবর আলী বাচ্চু তার পক্ষে সাক্ষী হিসেবে রবিউল ইসলামের স্ত্রী মোছা. রাখি খাতুনের নামও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া জনি ও সাগর নামের আরও দুজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

দুই পক্ষের অভিযোগেই উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় পক্ষই তাদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নলডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি।

এই সম্পর্কিত আরো খবর