নিজস্ব প্রতিবেদক :
দক্ষিণাঞ্চলের কিংবদন্তী সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান (হাবিব রিপোর্টার) আর নেই। সোমবার দুপুর ৩টায় রাজধানীর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তার ছেলে মাহিদুর রহমান হাসিব বর্তমানে দৈনিক জনকণ্ঠ ও মাছরাঙা টেলিভিশনের ভোলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
গত ২৩ নভেম্বর ভোরে আকস্মিক শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে প্রথমে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সড়কপথে ঢাকার পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মানবিক সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন হাবিবুর রহমান। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস “ঘূর্ণিঝড় গোর্কী”র পর ভোলার মর্মান্তিক পরিস্থিতির সংবাদ তিনি প্রথম প্রকাশ করেন তৎকালীন দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকায়। তার লেখা ‘কাঁদো বাঙালি কাঁদো, ভোলার গাছে গাছে ঝুলছে লাশ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি এখনো পিআইবি আর্কাইভে সংরক্ষিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন ১৯৬৭ সালে দৈনিক পূর্বদেশে কাজের মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিকতা যাত্রা শুরু। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের কর্মজীবনে তিনি ভোলা প্রেসক্লাবের ১৮ বার সভাপতি ও ৮ বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ বেতারের জেলা প্রতিনিধি ও দীর্ঘ ৩৫ বছর দৈনিক বাংলার কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সম্পাদনায় দৈনিক বাংলার কণ্ঠ ১৯৯৪ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২২ সালে বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পান। ১৯৮৫ সালে এমভি সামিয়া লঞ্চ ডুবির খবর প্রথম প্রচার করায় তিনি রাষ্ট্রপতির পুরস্কার লাভ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদের নির্যাতন ও নির্যাতনকক্ষের সাহসী বর্ণনাও তিনি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
তার মৃত্যুতে ভোলা–২ আসনের সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ভোলা প্রেসক্লাবের বর্তমান–সাবেক নেতৃবৃন্দ ও কর্মরত সাংবাদিকরাও তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানান।
এই বাংলা/এমএস
টপিক