জেলা বিএনপির আয়োজনে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা।
প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জসহ কুড়িগ্রামের রৌমারী, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, পাবনার সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চার ক্যাটাগরিতে মোট ২২টি নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে খেল্লা-গয়ইটা ১০টি, ঘাসি-ছিপা পাঁচটি, ছান্দি চারটি এবং পানসি তিনটি নৌকা ছিল। এর পাশাপাশি ৭০ ও ৮০ হাত দীর্ঘ দুটি কলাগাছের ভেলাও আয়োজনে অংশ নেয়।
বাইচে বিশেষ আকর্ষণ ছিল কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে আসা খেল্লা নৌকা ‘মায়ের দোয়া’। নৌকাটি গত ৩০ সেপ্টেম্বর রৌমারীর বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর গ্রাম থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে মানিকগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিভিন্ন নদীপথ পাড়ি দিয়ে তিন দিনে কালীগঙ্গার বেউথা ঘাটে পৌঁছায় নৌকাটি।
‘মায়ের দোয়া’ নৌকার পরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, ভারতের শাল কাঠ দিয়ে তৈরি নৌকাটি নির্মাণে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নৌকাটি তৈরির পর এবারই প্রথম কোনো নৌকা বাইচে অংশ নিয়েছেন তারা।
নির্ধারিত দূরত্বে নৌকাগুলো ছুটে চলার সময় বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে কালীগঙ্গার দুই পাড়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উপভোগ করেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।
আয়োজকরা জানান, বাইচে অংশ নেওয়া প্রতিটি নৌকার জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল। চারটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের জন্য মোটরসাইকেল, ইলেকট্রিক বাইক ও বিভিন্ন আকারের ফ্রিজসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয়। প্রতিটি নৌকার জন্য ছিল পিতলের কাপ।
এ ছাড়া ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নৌকা ও ব্যক্তিদের জন্য টেলিভিশন, প্রেসার কুকার ও রাইস কুকারসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়।
নৌকাবাইচ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ তা ম জহীর আলম খান লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌকাবাইচ কমিটির সদস্যসচিব মাসুদ পারভেজ, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নৌকা বাইচের সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
ছান্দি নৌকা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কুশিয়ারচর এলাকার ‘গায়ান বাড়ি’। বিজয়ী দল পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে একটি ইলেকট্রিক মোটরবাইক।
এ বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’, তৃতীয় হয়েছে কাঞ্চনপুরের ‘গায়ান তরী’ এবং চতুর্থ হয়েছে ‘সোনার চান’। দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ স্থান অর্জনকারী প্রতিটি নৌকা একটি করে ফ্রিজ পেয়েছে।
ঘাসি নৌকা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সিংগাইর উপজেলার ‘বাইমাইল এক্সপ্রেস’। দলটি পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে একটি মোটরসাইকেল। দ্বিতীয় হওয়া ‘কালাম শিকদার এক্সপ্রেস’কে দেওয়া হয়েছে একটি ফ্রিজ।
খেল্লা ক্যাটাগরিতে দর্শকদের নজর কাড়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে আসা ‘মায়ের দোয়া’। নৌকাটি চ্যাম্পিয়ন হয়ে একটি মোটরসাইকেল পেয়েছে। এ বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ‘মা-বাবার দোয়া’; তাদের দেওয়া হয়েছে একটি ফ্রিজ।
পানসি নৌকা ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাগির, মানিকগঞ্জ থেকে আগত ‘জনতা এক্সপ্রেস’। নৌকার মালিক মোহাম্মদ আহমেদ আলিকে পুরস্কার হিসেবে একটি মোটরসাইকেল দেওয়া হয়।
এ বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ‘আজম ব্রাদার্স’, তৃতীয় ‘বাগচী চ্যালেঞ্জার’ এবং চতুর্থ ‘নকিব বাড়ি একতা এক্সপ্রেস’। তিনটি নৌকাকেই একটি করে ফ্রিজ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস