সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিমলায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

ডিমলা (নীলফামারি) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলায় দিন দিন কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাজার, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা ও চলাফেরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের একটি অংশ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গ্রামের সহজ-সরল কিশোর ও তরুণদের একা পেয়ে ১৮ বছরের নিচের কিছু কিশোর দলবদ্ধভাবে অন্ধকার ও জনচলাচল কম এমন সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার একটি ছেলে সন্তানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ শেষ হওয়ার পথে। আমার ছেলে নিয়মিত স্কুলে যায় না। পরিবারের বাবা-মায়ের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আর কোনো অভিভাবক যেন আমার মতো পরিস্থিতির শিকার না হন। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে মিশছে, সেদিকে অভিভাবকদের নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাতে সন্তানদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যেতে দেওয়াই ভালো।’

এদিকে ডিমলার বিজয় চত্বর এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা এবং পথচারীদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৮ বছরের নিচের একদল কিশোর নিয়মিত সেখানে জড়ো হয়।

রুমনা নামের এক নারী বলেন, ‘পরিবার নিয়ে বিজয় চত্বরে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু কিছু কিশোরের চলাফেরা ও কথাবার্তা শুনে আমরা বিব্রত ও আতঙ্কিত বোধ করেছি। এমন সুন্দর একটি পরিবেশ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে মানুষ আর কোথায় গিয়ে স্বস্তিতে ঘোরাফেরা করবে? বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বলেন, ‘বিজয় চত্বরের পেছনে, ভূমি অফিসের পশ্চিমে এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পরিত্যক্ত বাসভবনসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবনের পর ফেলে যাওয়া বোতল, স্টিক ও বিভিন্ন উপকরণ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।’

স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদেরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ চিহ্নিত করে কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে বিজয় চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘কিশোর গ্যাং একটি সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়। তাদের বিষয়ে সার্বিক নজরদারি চলছে। প্রয়োজনে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে আইনানুগ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর