পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে ট্রলার দুর্ঘটনার দুই দিন পর নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকি (৩০)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়লিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে ভেসে ওঠা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি রাকিবুজ্জামান রকির বলে শনাক্ত করেন।
নিহত রাকিবুজ্জামান ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌরসভার কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়পাড়া এলাকার মৃত হাছান আলীর ছেলে। তিনি শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের শৈলকূপার কাতলা ঘাট থেকে শতাধিক তরুণ-যুবক একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ভাড়া করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজার পরিদর্শন ও আনন্দভ্রমণে বের হন। ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করার সময় ট্রলারটি সেতুর একটি পিলারে ধাক্কা লাগে। এতে রাকিবুজ্জামানসহ তিনজন নদীতে পড়ে যান।
এ সময় ট্রলারে থাকা অন্য যাত্রীরা চেষ্টা করে লিটন (৩৮) ও ওহাব (৪৫) নামে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে রাকিবুজ্জামান নিখোঁজ ছিলেন।
খবর পেয়ে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ, ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। শুক্রবার ও শনিবার অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার সকালে স্থানীয়রা চরকুড়লিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাকিবুজ্জামানকে শনাক্ত করেন।
লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ট্রলার দুর্ঘটনার পর থেকে রাকিবুজ্জামান রকি নিখোঁজ ছিলেন। রোববার স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে চরকুড়লিয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস