বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

লাল শাপলার মুগ্ধতায় উজিরপুরের সাতলার বিল, ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের

বরিশাল প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

বর্ষা শেষে শরতের নীল আকাশ, মিঠে রোদ আর বিস্তীর্ণ জলরাশির বুকে ফুটে থাকা লাল শাপলায় অপরূপ রূপ নিয়েছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলার বিল। শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা।

উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জলাভূমিজুড়ে এখন শাপলার সমারোহ। সাতলা, উত্তর সাতলা, পূর্ব সাতলা, মুড়িবাড়ি, পটিবাড়ি ও আলামদি গ্রামের বিলগুলোতে ফুটে আছে অসংখ্য শাপলা। ভোরের সূর্যের আলো পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাপলাগুলো আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নীলাভ জলরাশির ওপর ছড়িয়ে থাকা লাল শাপলার দৃশ্য যেন তৈরি করেছে প্রকৃতির নিজস্ব এক রঙিন ক্যানভাস।

বরিশাল শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে সাতলার বিল। বর্ষা ও শরৎকালে বিলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়। ছোট নৌকায় বিলের পানিতে ঘুরে বেড়ানোর সময় দুই পাশে শাপলার সারি, সবুজ প্রকৃতি ও নীল আকাশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নৌকার বৈঠার ছলাৎছল শব্দে পরিবেশ আরও মনোরম হয়ে ওঠে।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে সাতলার বিল দেখতে আসা দর্শনার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাতলার শাপলার বিলের ছবি আগে দেখেছি। তবে সরাসরি এসে এর সৌন্দর্য দেখে আরও বেশি মুগ্ধ হয়েছি। চারদিকে শুধু শাপলা আর শাপলা—দৃশ্যটি সত্যিই অসাধারণ।”

বরিশাল থেকে আসা তানজিলা আক্তার বলেন, “সকালে নৌকায় করে বিল ঘুরেছি। পানিতে লাল শাপলা, চারদিকে সবুজ আর ওপরে নীল আকাশ—সব মিলিয়ে দারুণ পরিবেশ। এখানে এলে শহরের ব্যস্ততা ও ক্লান্তি কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকা যায়।”

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা রাকিব হাসান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতলার বিলের অনেক ছবি দেখেছি। তাই সরাসরি দেখতে এসেছি। বাস্তবে এখানকার সৌন্দর্য ছবির চেয়েও বেশি আকর্ষণীয়। পর্যটকদের জন্য ভালো ঘাট, বসার জায়গা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সাতলার বিলে শাপলা ফুটে থাকে। তবে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শাপলার সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত শাপলা সতেজ ও প্রস্ফুটিত থাকায় অনেক দর্শনার্থী সূর্য ওঠার আগেই বিলের পাড়ে এসে পৌঁছান।

স্থানীয় নৌকার মাঝি আবদুল কাদের বলেন, “শাপলা ফুটলে আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসে। নৌকায় করে তাদের বিল ঘুরিয়ে দেখাই। এ সময়টাতে আমাদের বাড়তি আয় হয়।”

সাতলার বিল শুধু পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গা নয়, স্থানীয় অনেক মানুষের জীবিকার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। কেউ কেউ বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। সৌন্দর্যের পাশাপাশি শাপলা স্থানীয় মানুষের খাদ্য ও আয়ের একটি উৎস হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাতলার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে লাল, নীল ও সাদা শাপলা ফুটে আসছে। তবে এ বিলে লাল শাপলার আধিক্যই বেশি। শাপলার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।

স্থানীয়দের মতে, সাতলার শাপলার বিলকে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত নৌঘাট, দর্শনার্থীদের বসার স্থান, শৌচাগার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

প্রতিবছর বর্ষা ও শরৎ মৌসুমে নতুন সাজে হাজির হয় সাতলার বিল। ভোরের আলোয় নীল আকাশ, সবুজ জলাভূমি আর লাল শাপলার মেলবন্ধন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য তৈরি করে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল হওয়ার আগেই বিলের পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর