সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহে পর্যটন শিল্প ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সভা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহ জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ব্রহ্মপুত্র নদ, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা গেলে জেলার পর্যটন শিল্প নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে ময়মনসিংহের পর্যটন সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ককে আরও দৃষ্টিনন্দন, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

তিনি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন, নিরাপত্তা জোরদার, শিশুদের জন্য আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্র। এর সৌন্দর্য সংরক্ষণ, সবুজ পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও স্বাস্থ্যকর বিনোদন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

সভায় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, জলাধার রক্ষা এবং সবুজায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন পর্যটন আকর্ষণ সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

সভা শেষে অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্ক একটি আধুনিক, নান্দনিক ও পর্যটকবান্ধব বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং ময়মনসিংহের পর্যটন শিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।

এই সম্পর্কিত আরো খবর

বাগেরহাটে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বক্তারা নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে সঠিক তথ্য দ্রুত প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন, বাগেরহাটের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), বাগেরহাটের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে র‍্যালি বের করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য ও তথ্য অধিকার বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. মোত্তালেব হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সনাক সদস্য অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় মূল বিষয়বস্তুর ওপর আলোচনা করেন সনাক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহ আলম টুকু। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাগুফতা হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু রাসেল, জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মঈনুল ইসলাম, বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন মল্লিক, অ্যাডভোকেট এস এম মাহবুব মোর্শেদ লালন, পিপি বাগেরহাট, প্রেসক্লাব প্রতিনিধি ইয়ামিন আলী এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জনস্বার্থে প্রণীত আইনগুলোর মধ্যে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অন্যতম। নাগরিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে। একই সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হয়। তথ্য অধিকার আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা কমানো প্রয়োজন।

আলোচনায় গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, যাচাইহীন তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তাই অপতথ্য মোকাবিলায় তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দ্রুত প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সভায় তথ্য কমিশন দীর্ঘদিন পুনর্গঠিত না হওয়ায় নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলেও আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “সর্বসাধারণের তথ্য-উপাত্তে প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা কল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তথ্যই শক্তি। সঠিক তথ্যের মাধ্যমে অপতথ্য প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ইউপি সেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রকল্পের ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাগেরহাটে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, সনাক, ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই বাংলা/এমএস

বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত