শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন

হালতিবিলে নৌকার ভাড়া নিয়ে পর্যটকদের ভোগান্তির অভিযোগ, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, নাটোর
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ নীলাভূমি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিল। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ জলরাশি ঘিরে হালতিবিল ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবেও পরিচিত।

সম্প্রতি হালতিবিল পরিদর্শন করে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এর উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামমিউজ্জামানসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩০ জুলাই ‘হালতিবিল সংরক্ষণ ও পর্যটন বিকাশ’ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হালতিবিলে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে নৌকার ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

তবে প্রশাসনের নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর না হওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে নৌকার মাঝিদের বিরুদ্ধে। পর্যটক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা হয়রানি ও আর্থিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৌকার ভাড়া নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়া সম্পর্কে পর্যটকদের জানানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। এ নিয়ে মাঝিদের সঙ্গে পর্যটকদের বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একাধিক দর্শনার্থীর অভিযোগ, নৌকায় ঘোরার জন্য আগে থেকে ভাড়া নির্ধারণ না করে পরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা সাধারণ মানুষ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হালতিবিলকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই পর্যটকদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছ ভাড়াব্যবস্থা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। নৌকার ভাড়া নিয়ে এমন অভিযোগ অব্যাহত থাকলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যেতে পারে এবং হালতিবিলের সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাঁরা প্রশাসনের কাছে নির্ধারিত নৌকার ভাড়া প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হালতিবিলের নৌযান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং পর্যটকরা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

এই সম্পর্কিত আরো খবর