নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়া দুই পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার (৪৫) ও পুলিশ সদস্য রাকিব হোসেন (৩৬)।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখতে সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) নূর মোহাম্মদ আলীকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে মারা যায় দুই শিশু লাম (৯) ও ফারহান (৯)। তাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য রাত ৮টার দিকে নাজিরপুর ইউনিয়নের ওয়াপদা বাজার এলাকায় যান এসআই আবুল বাসার ও পুলিশ সদস্য রাকিব হোসেন।
সে সময় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে দুই শিশুর জানাজা চলছিল। পুলিশ লাশ দুটি থানায় নেওয়ার কথা জানালে জানাজায় অংশ নেওয়া লোকজন এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লাশের দাফনের কাপড় সরিয়ে পরীক্ষা করার চেষ্টা করা হলে উপস্থিত লোকজন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পুলিশ সদস্য নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পাশের একটি দোকানে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, অপমৃত্যুর ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছিল। তবে জানাজাস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে থানায় ফিরিয়ে আনা হয়।
ঘটনার পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই বাংলা/এমএস