সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে কুড়িগ্রামের চিলমারী নদী বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা পুতুল চন্দ্র রায়কে কয়েক দিন ধরে কর্মস্থলে দেখা যাচ্ছে না। তাঁর অনুপস্থিতিতে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বাঘাবাড়ী নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. মাহাবুব আলম তায়েফকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতুল চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের একটি প্যাডের ছবিও রয়েছে। ওই প্যাডে তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্যাডটির সত্যতা এবং তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ২০২২ সালের ১৭ মে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে পুতুল চন্দ্র রায়ের বিরোধের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ওই সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই চিলমারী নদী বন্দরের কর্মস্থলে তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টি সামনে আসে। পুতুল চন্দ্র রায় ২০২৫ সালের শুরুর দিকে চিলমারী নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
এ বিষয়ে পুতুল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার মানুষের সঙ্গে আর দেখা হবে না।” তিনি বদলি হয়েছেন কি না জানতে চাইলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বলেন, “এসব বিষয়ে আমি বলব না। আপনারা জেনে নিন।”
অন্যদিকে, একটি সূত্র দাবি করেছে, চিলমারী নদী বন্দরে পুতুল চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল এবং এর মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সূত্রের দাবি, তিনি অন্য একটি বন্দরে বদলির জন্য ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুতুল চন্দ্র রায়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিলমারী নদী বন্দরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পোর্ট কর্মকর্তা মো. মাহাবুব আলম তায়েফ বলেন, বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। আগামী সপ্তাহে তিনি চিলমারীতে আসবেন।
এই বাংলা/এমএস