সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন

চরভদ্রাসনে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিস্তার, অভিযান জোরদারের দাবি

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদী ও বিভিন্ন খাল-বিলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলে ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে এ ধরনের জাল ব্যবহার করা হলেও নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি না থাকায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। জনবল ও বাজেটসংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলেরা জানান, চায়না দুয়ারি জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় বড় মাছের পাশাপাশি ছোট পোনা, জলজ প্রাণী ও প্রজননক্ষম মাছও আটকা পড়ে। ফলে নদী ও জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈধ জাল ব্যবহারকারী জেলেদের ওপরও। আগের তুলনায় মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক জেলে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে তারা জানান।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়। নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান, অবৈধ জাল জব্দ এবং এর বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তাদের মতে, পদ্মা নদী ও স্থানীয় জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জেলে সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় জেলে ও সচেতন মহল দ্রুত নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে কার্যকর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে পদ্মা নদী ও স্থানীয় জলাশয়ের দেশীয় মাছের প্রজনন এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর