শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

বকশীগঞ্জে পাটের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্যের প্রত্যাশায় কৃষক

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি :

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলনে খুশি কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাটের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। বর্তমানে মাঠজুড়ে চলছে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ সংগ্রহের ব্যস্ততা। তবে ভালো ফলনের পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় আরও ভালো বাজারদরের প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে বকশীগঞ্জে ১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭০ হেক্টরের পাট ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে এবং বাকি ৬০৫ হেক্টরের পাট কাটার কাজ চলমান। চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার নিলক্ষিয়া, মেরুরচর, বাট্টাজোড়, বগারচর ও ধানুয়াকামালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, কৃষকরা কেউ পাট কাটছেন, কেউ জলাশয়ে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ আঁশ ছাড়িয়ে শুকানোর কাজে ব্যস্ত।

নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, এ বছর পাটের ফলন ভালো হলেও সার, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে। বর্তমান বাজারদরে খরচ উঠে এলেও দাম আরও কিছুটা বাড়লে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

বগারচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, পাট চাষে পরিশ্রম অনেক হলেও ফলন ভালো হওয়ায় তারা আশাবাদী। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করবেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও ফলন দুটিই সন্তোষজনক। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অবশিষ্ট জমির পাটও সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী বছর পাটের আবাদ আরও বাড়বে।

বর্তমানে বকশীগঞ্জের বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়ানো হলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে বিশ্ববাজারে পাটের চাহিদা বাড়ছে। উন্নত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি, সরকারি সহায়তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে পাট চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আয়ের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর