নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুরক্ষা’র উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চসিক পাবলিক লাইব্রেরি হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে প্রায় ৯ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০৭ জনে নেমে এসেছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মেয়র বলেন, উন্নতমানের লার্ভিসাইড ব্যবহার, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রমের সুফল মিলছে। তবে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ফুলের টব, পুরোনো টায়ার কিংবা যেখানে পানি জমতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সভা শেষে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতামূলক একটি র্যালি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

