বরিশাল প্রতিনিধি :
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বরিশালের আবাসন খাত। ভবনের নকশা অনুমোদন কার্যক্রমে গতি ফেরায় নগরীতে নতুন নির্মাণকাজ শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ৩০টি ভবনের নকশা অনুমোদনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নির্মাণশ্রমিক, নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী এবং ভবন নির্মাণে আগ্রহী সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে ভবনের নকশা অনুমোদন কার্যক্রম প্রায় অচল অবস্থায় ছিল। ফলে নতুন ভবন নির্মাণের হার কমে যায় এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়েন। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তনও করেন।
তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন দায়িত্ব গ্রহণের পর পাঁচতলা ভবনের ৪৫টি, ছয়তলা ভবনের ১২টি এবং একতলা থেকে চারতলা পর্যন্ত ১৩৭টি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকা ১২৪টি নকশার ত্রুটি সংশোধন করে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের স্থপতি সাইদুর রহমান লুসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা ৭০টি নকশার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি প্রায় ৪০টি নকশা বর্তমানে অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
সিমেন্ট ও রডজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী সমিতি বরিশালের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হিরা বলেন, “নকশা অনুমোদনের ফলে নগরীতে ৩০ থেকে ৬০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। এতে নির্মাণশ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন গতি ফিরে আসবে।”
নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান বিডিং ডিজাইন সিস্টেমের স্থপতি মিলন মণ্ডল জানান, প্রায় ২ হাজার ২০০ বর্গফুট আয়তনের একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে গড়ে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা ব্যয় হয়। সেই হিসাবে অনুমোদিত ৩০টি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলে নগরীর অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি হবে।
দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, “আড়াই বছর আগে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছিলাম। সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু করেছি। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়েছে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সমন্বয়ক রফিকুল আলম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে নকশা অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে প্রক্রিয়াটি সহজ হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, “নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করা হয়েছে। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বরিশালের আবাসন খাত এখন পুনরুজ্জীবনের পথে। নির্মাণকাজের গতি বৃদ্ধি পেলে শুধু আবাসন খাতই নয়, শ্রমবাজার, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক নগর অর্থনীতিও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক

