বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল মুক্ত দিবস: নয় মাসের দখলদারিত্ব ভেঙে ৮ ডিসেম্বরের জয়যাত্রা

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

বরিশাল ব্যুরো :


আজ ৮ ডিসেম্বর—বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের দখলদারিত্ব ভেঙে মুক্ত হয় বরিশাল। শহরের আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল স্লোগান।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

২৫ মার্চ ঢাকার গণহত্যার পরদিনই বরিশালের মুক্তিযোদ্ধারা পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র সংগ্রহ করে সংগঠিত প্রতিরোধ শুরু করেন। তখনই গড়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের অস্থায়ী সচিবালয়, যেখান থেকে অস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণ ও অপারেশন পরিচালিত হতো।

এপ্রিলের শুরুতেই আকাশ, স্থল ও নৌ—তিন দিক থেকে পাকিস্তানি বাহিনী বরিশালে বড় আকারের হামলা চালায়। গৌরনদী ও শায়েস্তাবাদের যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধে তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরে চরবাড়িয়া এলাকায় নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে শহর দখল করে নেয় হানাদার বাহিনী।

জিলা স্কুল, অশ্বিনী কুমার হল ও ওয়াপদা অফিস পরিণত হয় ভয়ংকর নির্যাতন কেন্দ্রে। অগণিত মানুষকে হত্যা করে লাশ ফেলা হতো সাগরদী খালে। রাজাকার-আলবদর ও শান্তি কমিটির সদস্যরা পাক সেনাদের সহযোগিতায় বরিশালে ভয়াবহ সন্ত্রাস চালায়।

তবে মুক্তিযোদ্ধাদের ধারাবাহিক আক্রমণ ও থানাগুলোতে প্রতিরোধ জোরদার হওয়ায় শত্রু বাহিনী ওয়াপদা এলাকা ছাড়া আর কোথাও টিকতে পারেনি।

৪ ডিসেম্বর যশোরে মুক্তিবাহিনীর বিজয় পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়। ৭ ডিসেম্বর রাতেই তারা নৌপথে বরিশাল ত্যাগ করে।

৮ ডিসেম্বর সকালে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি। মুক্তিযোদ্ধারা ধীরে ধীরে শহরে প্রবেশ করে কোতয়ালি থানা, সরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেন এবং উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার পতাকা।

১৭ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যায়ক্রমে আত্মসমর্পণ করে অবশিষ্ট পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগীরা। এভাবেই সমাপ্ত হয় নয় মাসের দখলদারিত্ব ও বরিশালের বেদনাবহ অধ্যায়।

মুক্তিযুদ্ধের সেই বীরত্বগাথা আজও বরিশালবাসীকে স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর