বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তৃতীয় লিঙ্গের দুই নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নীলফামারী জেলা পরিষদের বিশেষ উদ্যোগ

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
নীলফামারীতে তৃতীয় লিঙের দুই নারীর পাশে জেলা পরিষদ, জমি-দোকান ঘরসহ পেলো মালামাল / ছবি - এই বাংলা

নীলফামারী প্রতিনিধি :

উদ্যোক্তা সৃষ্টির উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গের দুই নারীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে নীলফামারী জেলা পরিষদ। সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা এলাকার দুই বোন—সুফিয়া আক্তার ও সাবিনা আক্তার—কে জমি, দোকানঘর এবং প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক মালামাল প্রদান করা হয়েছে।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ভবানীগঞ্জ বাজারে জেলা পরিষদের উপহারের এই প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে সুফিয়া ও সাবিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায়, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দীক, প্রবেশন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ফিরোজ হোসেন এবং নীলফামারী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ এই সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুফিয়া আক্তার জানান, পাঁচ ভাইবোনের বৃহৎ পরিবারে তাদের বাবার কৃষিকাজের আয়েই সংসার চলে। সরকারি ভাতা ছাড়া তেমন কোনো সহায়তা পাওয়া না হলেও জেলা পরিষদের উদ্যোগে নতুন জীবনের আশা পাচ্ছেন তারা। বাবা সুরুজ আলীও জানান, দুই মেয়ের ব্যবসায় যুক্ত হওয়া পরিবারের জন্য যেমন স্বচ্ছলতা আনবে, তেমনি কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখবে।

সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দীক জানান, দুই বোন বিভিন্ন দক্ষতা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এগোতে পারছিলেন না। জেলা পরিষদের এই পদক্ষেপ প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের গবাদিপশু ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। সুফিয়া ও সাবিনা দেশের জন্য মডেল হয়ে উঠবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে—এই লক্ষ্যেই জেলা পরিষদ কাজ করছে। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও যেন সম্মানের সাথে সমাজে দাঁড়াতে পারে, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দোকান উদ্বোধনের পর প্রথম ক্রয় করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এবং দ্বিতীয় ক্রয় করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায়।

এই বাংলা/এমএস

টপিক

এই সম্পর্কিত আরো খবর