সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সমান মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত করাই সরকারের লক্ষ্য। দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে সরকারি অনুদানের ডিও বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের সময় যখন আপনাদের দরজায় গিয়েছিলাম, তখন আপনারা বলেছিলেন, এই বাংলাদেশে যেন কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে না পারে। আমি সেই প্রত্যাশার কথা ভুলিনি।”
তিনি আরও বলেন, “এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না। আমি একটি মসজিদের জন্য অনুদান দিলে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দিই। কারণ ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রনজু, লালপুর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দিপেন্দ্রনাথ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমারসহ উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী কাতার চ্যারিটির অর্থায়নে গ্লোবাল উন্নয়ন সেবা সংস্থার উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা বিতরণ করেন। এ সময় ২৪ জনের মধ্যে আটটি করে সিএনজি, অটোরিকশা ও ক্রাশার মেশিন বিতরণ করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এই বাংলা/এমএস