“ধর্ম যার যার দেশ সবার” এই অঙ্গিকার নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নাটোরের নলডাঙ্গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা এবং পূজা মণ্ডপগুলোতে সরকারি চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৫ অক্টোবর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০ টায় ঘটিকায় নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু দুর্গাপূজাকে নিরাপদ ও উৎসবমুখর রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন,বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হিন্দুরা নিরাপদ ছিল না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। বিগত আ’লীগ সরকারের সময়ের চেয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে পুজা মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।
নলডাঙ্গা উপজেলায় এবছর ৫৯ টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপজেলার ৫৯ টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে সরকারি উপহারের চাল বিতরণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় ও চাউল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হুইপ দুলু আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার হিন্দু সম্প্রদায়দেরকে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। তারেক রহমানের সরকার সবচাইতে বেশি সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দিবে।
“বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকেই আমরা সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের উৎসবে শরীক হয়ে আসছি। দুর্গাপূজা কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পূজায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সবাই যাতে আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের নজরদারি রাখবে।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শামীম হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সবুজ আলী, সমাজসেবা কর্মকর্তা সুমন সরকার, নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বুলবুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
এই বাংলা/এমএস