বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে দৈনিক দেশের কণ্ঠের নবম এবং ডেইলি এক্সপ্রেসের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী আয়োজনে ফুলেল শুভেচ্ছা, আলোচনা সভা, কেক কাটা, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
পত্রিকা দুটির সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আলমগীর হোসেনকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে কার্যালয়টি পরিণত হয় আনন্দমুখর মিলনমেলায়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে আলোচনা সভা, কেক কাটা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সম্পাদক ও প্রকাশক আলমগীর হোসেন এবং উপদেষ্টা সম্পাদক কবি নাসির আহমদ কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আবদুল হালিম, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) মহাপরিচালক খালেদা বেগম, ডিএফপির পরিচালক (বিজ্ঞাপন ও নিরীক্ষা) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, উপপরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. আব্দুল মতিন, রূপালী ব্যাংকের ঢাকা উত্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের শেখ মুনজুর করিম, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নুরুল আলম, কমার্স ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা মাহমুদুল হক জিহাদসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা দৈনিক দেশের কণ্ঠের প্রকাশনার ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে বক্তব্য দেন। পত্রিকাটির বিশেষ সংখ্যারও প্রশংসা করেন কবি-সাহিত্যিকেরা। বক্তারা সংবাদ পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা, গণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাহিত্যচর্চায় পত্রিকাটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ৩২ পৃষ্ঠার বিশেষ সংখ্যায় এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ প্রায় শতাধিক লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে। অতিথিরা সংখ্যাটির বিষয়বৈচিত্র্য ও মানের প্রশংসা করেন।
কথাশিল্পী নাসরীন জাহান বলেন, কবি নাসির আহমদের সূত্রে দৈনিক দেশের কণ্ঠের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পত্রিকাটির সাহিত্যপাতা তাঁর বিশেষ পছন্দের।
কবি বিমল গুহ বলেন, পত্রিকাটির বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও মানসম্মত সাহিত্যপাতা তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
কবি আশরাফ আহমেদ বলেন, পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক কবি নাসির আহমদ তাঁর ৫০ বছরের বন্ধু। সেই সূত্রে দৈনিক দেশের কণ্ঠের সঙ্গে তাঁর সংযোগ তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটি আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কথাশিল্পী ঝর্না রহমান বলেন, কবি নাসির আহমদ লেখা চাইলে তিনি দৈনিক দেশের কণ্ঠের জন্য লেখেন। পত্রিকাটির বিশেষ সংখ্যার সম্পাদনা ও মান নিয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কথাশিল্পী ফরিদুর রহমান, বাংলা একাডেমির পরিচালক কবি তপন বাগচী, কবি অনিকেত শামীম, কবি-প্রাবন্ধিক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ, দৈনিক খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ ফারুকী, কবি-সাংবাদিক ও শিল্পী হাসান মাহমুদ, কবি শেলী সেনগুপ্তা, কবি ও কথাসাহিত্যিক নভেরা হোসেন, সাংবাদিক ইয়াসমীন রীমা, শিশুসাহিত্যিক স ম শামসুল আলম, কবি সোহাঙ্গল বিপ্লব, কবি নজরুল ইসলাম নাঈম, শিশুসাহিত্যিক বোরহান মাসুদ এবং আলোকচিত্রী কে এম দুলালসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগমসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা পত্রিকা দুটির প্রকাশনা অব্যাহত রাখা এবং সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সম্পাদক ও প্রকাশক আলমগীর হোসেনের নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।
সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে সংগীত পরিবেশন করেন হোসনে আরা রীমা, হাসান মাহমুদ, আস্থিত রেবতী, অর্চি অনন্যা ও কবির হাসান। তবলায় ছিলেন আবুল হোসেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন জান্নাতুল ফেরদৌস অনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি দৈনিক দেশের কণ্ঠের নয় বছরের পথচলার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ২৫ বছর পর এ সপ্তাহে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন হার বৃদ্ধির প্রস্তাব কার্যকরের ক্ষেত্রে মহাপরিচালকের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী দিনের পথচলায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন আলমগীর হোসেন। একই সঙ্গে পত্রিকার পাঠক, সংবাদকর্মী, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার, এজেন্ট ও শুভানুধ্যায়ীদের অবদান ও সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এই বাংলা/এমএস