ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ক্লাস চলাকালে আশপাশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রাত জেগে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সোমবার দুপুরে কলেজ মিলনায়তনে ‘উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন, পাঠদানের অনুকূল পরিবেশ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানানো হয়।
কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কমে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ এ সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমজাদ হোসেন। উচ্চমাধ্যমিক কমিটির আহ্বায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মুরারী মোহন দাস ও দর্শন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
সভায় বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, অভিভাবক মাহাবুবুল হক দুদু ও অভিভাবক রিফাজ বিশ্বাস লালনসহ অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চমাধ্যমিকের অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার চেয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বেশি সময় দিচ্ছে। রাত জেগে বিভিন্ন ভিডিও দেখা, গেমস ও চ্যাটিংয়ে সময় কাটানোর কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হচ্ছে। এতে কলেজে যাওয়ার আগ্রহও কমছে।
এ ছাড়া ক্লাস চলাকালে কলেজের আশপাশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস করছে বলে সভায় অভিযোগ করা হয়। বক্তারা বলেন, কিছু বহিরাগত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এসব কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। এতে কলেজের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে।
এ অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কলেজের আশপাশের কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের আসক্তি কমাতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কলেজের শিক্ষকরা জানান, সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির হার প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে না। কেন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসছে না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আমজাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে ‘মেন্টর’ মনোনীত করা হয়েছে। এসব মেন্টর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কলেজে উপস্থিতি ও ক্লাসে অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষক সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের ভালো পাঠদান নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”
এই বাংলা/এমএস