চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে বাড়ি ফেরার পথে সাংবাদিক কামরুল ইসলামের (৩০) ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার করেরহাট বাজারের লক্ষ্মীছড়া ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত কামরুল ইসলাম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টিভি ও দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির মিরসরাই উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে করেরহাট বাজার এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত কামরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে মারধর করে সঙ্গে থাকা স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।
কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মিরসরাইয়ে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মাদক ও চাঁদাবাজ চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে রাতের আঁধারে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস গেট এলাকায় ফটিকছড়ি ও রামগড় থেকে বালুবাহী পিকআপ ও ট্রাক আটকিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্র ও চালকদের অভিযোগ, বৈধ ঘাট থেকে বালু পরিবহনের স্লিপ দেখানোর পরও কয়েকটি গাড়ি থেকে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বারইয়ারহাট পৌরসভার সহকারী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয়ক ফজলুল মুরাদ, করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জামসেদ আলম ফারুক, যুবদল নেতা মো. উদ্দিন, তারেক, মাসুদ, সাইফুল ইসলাম, পারভেজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় এজাহার দিয়েছেন সাংবাদিক কামরুল ইসলাম।
করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ইয়াসিন মিজান বলেন, বিএনপি এ ধরনের হামলাকে সমর্থন করে না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, সাংবাদিক কামরুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ সময় পর তাঁর শারীরিক অবস্থা বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এই বাংলা/এমএস