মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীনের পথে দ্বীপচরের বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের কঁচাবাঁচা জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন বিলীনের পথে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের আশপাশের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিতে পড়েছে চরটির একমাত্র কমিউনিটি ক্লিনিকও। এতে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাসে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে জাহাজের আলগা এলাকায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও প্রায় ৪০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় পুরো গ্রামের দুই শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার ল্যাম্ব হাসপাতাল, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, নূরানী মাদরাসা, জামে মসজিদ, নতুন বাজার এবং দই খাওয়ার চর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘এটি চরের একমাত্র সরকারি বিদ্যালয়। আমরা বেশি কিছু চাই না, শুধু আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার এই শেষ আশ্রয়টুকু বাঁচাতে চাই। স্কুলটি নদীতে চলে গেলে এই চরাঞ্চলের শিশুদের ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে?’

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী আইনজীবী মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘একটি বিদ্যালয় হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি ভবন বিলীন হওয়া নয়। এর সঙ্গে পুরো একটি এলাকার প্রজন্মের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ভাঙন মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের সহযোগিতা চাই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. ফিরোজা বেগম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে বিদ্যালয়টি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বিদ্যালয়টি জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষা কিংবা প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শিক্ষা বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের ভাঙনের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। দ্বীপচরের মাঝে হওয়ায় সেখানে কাজ করার সুযোগ নেই। তবুও কীভাবে ভাঙন মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলায় ৭২টি পয়েন্টে ভাঙন চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি পয়েন্টে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ চলছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর