সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরতে চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি জেএম সেন হলে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

 

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগামীকাল ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে বিশেষ আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও প্রস্তুতি তদারককালে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এটি আমাদের অহংকার, আমাদের শক্তি। এই সম্প্রীতির চিত্র আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চাই।’

জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি জেএম সেন হলে গিয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। এ সময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ, আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নৃত্য, গীতাপাঠ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পূজামণ্ডপ ঘিরে জোরদার নিরাপত্তা

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১২ হাজার আনসার সদস্য ও পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতেও আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্ভয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক তাঁদের পাশে রয়েছে। এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাল ও আর্থিক সহায়তা আগের বছরের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অসচ্ছল পূজামণ্ডপগুলোকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে বেড়েছে পূজার আয়োজন

চট্টগ্রামে এবার দুর্গাপূজার আয়োজন ও মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক জানান, সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার নতুন পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় ৪০০টি নতুন সর্বজনীন পূজামণ্ডপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাঁশখালীর প্রত্যন্ত জেলেপল্লির একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গতকাল বাঁশখালীর জেলেপল্লিতে গিয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে যেভাবে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা যুগ যুগ ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া উৎসাহ উৎসবের আনন্দ আরও বাড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর