শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে অংকুর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ২০ হাজার শিক্ষার্থী

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে অংকুর বৃত্তি প্রকল্প-২০২৬-এর পরীক্ষা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আয়োজিত এ পরীক্ষায় মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

অংকুর শিশু-কিশোর সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের চট্টগ্রাম উত্তর জোন এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে। শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই, সৃজনশীলতার বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং প্রতিভাবান প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন অংকুর বৃত্তি প্রকল্পের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুন্নবী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর আবুল কালাম, উপদেষ্টা মুমিনুল হক, আহ্বায়ক খুররম মুরাদ ও সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের নেতারা। এ সময় তাঁরা অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল ও মেধাভিত্তিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

অংকুরের সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পায়, সেটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য। বৃত্তি পরীক্ষার বাইরে খেলাধুলা, বিতর্ক এবং বিভিন্ন ইনডোর-আউটডোর ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে অংকুর।

সংগঠনটির আহ্বায়ক খুররম মুরাদ জানান, চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ১৯৮৫ সাল থেকে কাজ করছে অংকুর। ২০০০ সালে বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয়। তাঁর ভাষ্য, এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। তাঁদের অনেকে পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিনিধিত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর আবুল কালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে অংকুর। পাশাপাশি দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি সংগঠনটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অংকুর বৃত্তি প্রকল্পের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও বিকাশে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্বেচ্ছাসেবীদের নিষ্ঠা ও তরুণদের অংশগ্রহণের কারণে আয়োজনটি এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরীক্ষা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, কেন্দ্রপ্রধান, হল পরিদর্শক, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর জোনের আহ্বায়ক খুররম মুরাদ।

পরীক্ষা শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা। তাঁরা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত চালু রাখার আহ্বান জানান।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর