শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা অর্জনই প্রকৃত শিক্ষকের সাফল্য: চট্টগ্রামের ডিসি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়, বরং জ্ঞান, যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব ও আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা অর্জন করাই একজন শিক্ষকের প্রকৃত সার্থকতা বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শনিবার চট্টগ্রামে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, পদমর্যাদা বা ক্ষমতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রকৃত শ্রদ্ধা আদায় করা যায় না। নিজের জ্ঞান, মূল্যবোধ ও আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে উঠতে হয়।

শিক্ষকতার প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বই এখন ইন্টারনেটেও পাওয়া যায়। তাই শুধু পাঠ্যবই পড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পড়া আদায় করলেই একজন শিক্ষক তাঁর দায়িত্বে সফল হয়েছেন—এমনটি বলা যায় না। শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষকের মেধা, জ্ঞান ও আচরণকে সম্মান করবে এবং তাঁর কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে, তখনই শিক্ষকতা সার্থক হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভীতির পরিবর্তে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে। তা না হলে দক্ষ, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা কঠিন হবে।

শিক্ষার উদ্দেশ্য যে কেবল সনদ বা ডিগ্রি অর্জন নয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেও কেউ যদি দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন না হন, তবে সেই শিক্ষার সুফল দেশ ও সমাজের জন্য খুব একটা কাজে আসবে না।

শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষককে চলে যেতে হওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সম্মান অর্জনে শিক্ষকদের নিজেদের যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব ও আচরণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

প্রযুক্তির প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষকদেরও নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। সময়ের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জেলা প্রশাসক দাবি করেন, শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা বজায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

কর্মস্থল কিংবা সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতাকে দায়িত্ব পালনের বাধা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যেসব সেবা গ্রহণ করছেন, তার বিপরীতে রাষ্ট্র ও সমাজকে তিনি কতটুকু ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, কেবল নির্দেশনা দিয়ে কাউকে মানবিক করে তোলা যায় না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের নিজেদের আচরণের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দক্ষ, দেশপ্রেমিক এবং মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর