নাটোরের বড়াইগ্রামে শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সরবরাহ করা খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাদা ভাত, মুরগির মাংস, ডাল ও ডিমসহ প্যাকেটজাত খাবার সরবরাহ করা হয়। খাবার খাওয়ার পর অনেক শিক্ষক ও তাদের স্বজন বমি, পেটব্যথা ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন, চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জন, কারবালা দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন, মৌখাড়া ইসলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ জন এবং মনপিরীত দাখিল মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। এছাড়া মাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা, গড়মাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামাগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, কুরশাইট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও গাড়ফা মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার দুইজন করে শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শিক্ষকদের দাবি, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। উপজেলার ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা সভায় অংশ নেন। খাবারের প্যাকেট বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খাওয়ানোর পর তাদের মধ্যেও কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকও খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন। কয়েকজন শিক্ষক খাবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেয়েছেন এবং তারাও অসুস্থ হয়েছেন।
বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, আহম্মেদপুরের বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার সরবরাহের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। তবে কী কারণে এতজন অসুস্থ হয়েছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এটি শিক্ষকদের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। খাবার কোথা থেকে এবং কীভাবে সরবরাহ করা হয়েছে, তা আয়োজকরাই বলতে পারবেন।
খাবার সরবরাহকারী বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মিন্টু মিয়া বলেন, কী কারণে এমন হয়েছে, তা তিনি বলতে পারছেন না। তাঁর দাবি, খাবারে সমস্যা হলে সবাই অসুস্থ হওয়ার কথা; কিন্তু কেউ অসুস্থ হয়েছেন, আবার কেউ হননি।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, খাবারের মানের সমস্যার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। হোটেলের পরিবেশ ও খাবারের মান পরীক্ষা করে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বাংলা/এমএস