শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ন

পৌষের কনকনে শীতেও থেমে নেই শেরপুরের গারো পাহাড়ঘেঁষা কৃষকের জীবনসংগ্রাম

এইবাংলা অনলাইন
  • প্রকাশকালঃ সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
‎পৌষের হিমেল সকালে শেরপুর গারো পাহাড়ে থেমে নেই কৃষক / ছবি - এই বাংলা

বিশেষ প্রতিনিধি :

পৌষ মাসের তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় ঢাকা শেরপুর জেলার গারো পাহাড়ঘেঁষা সীমান্তবর্তী জনপদ। একদিকে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। কনকনে ঠান্ডায় যখন সাধারণ মানুষ ঘরের ভেতর আশ্রয় নেন, তখনই এই অঞ্চলের কৃষকেরা নেমে পড়েন মাঠে—জীবন ও জীবিকার টানে।

ভোরের আলো ফোটার আগেই গারো পাহাড়ের পাদদেশে শুরু হয় কৃষিকাজ। কুয়াশায় ঢাকা জমিতে হাঁটুসমান কাদা ও পাহাড়ি ঠান্ডা পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে কোদাল চালান কৃষকেরা। প্রতিটি কোপে তারা বুনে দেন আগামীর স্বপ্ন—সবুজ ফসল, ভরা ধান আর পরিবারের মুখে হাসি। সীমান্তবর্তী এই কৃষকেরাই পাহাড়ি এলাকার মানুষের খাদ্য জোগানের অন্যতম ভরসা।

দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, গারো পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় শীত সমতলের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। মেঘালয় থেকে নেমে আসা হিমেল বাতাস ও কুয়াশা মাঠে কাজ করা আরও কষ্টসাধ্য করে তোলে। তবুও সময়মতো জমি প্রস্তুত না করলে বোরো ও রবি ফসল চাষে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই মাঠে নামতে হয়।

এলাকাবাসী জানান, এসব কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের ওপরই টিকে আছে পাহাড়ঘেঁষা গ্রামগুলোর জীবনযাত্রা। শীতের সকালে যখন অন্যরা উষ্ণতার খোঁজে ঘরে থাকেন, তখন কৃষকেরা মাঠে নেমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যান।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। উন্নত সেচব্যবস্থা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলের কৃষি আরও টেকসই ও সমৃদ্ধ হবে।

পৌষের তীব্র শীত, গারো পাহাড়ের কুয়াশা আর সীমান্তের হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে শেরপুরের এসব কৃষক প্রমাণ করছেন—সবাই যখন থেমে যায়, তখনও কৃষক থেমে থাকেন না। বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা বুনে চলেছেন জীবনের স্বপ্ন ও দেশের ভবিষ্যৎ।

এই বাংলা/এমএস

টপিক 

এই সম্পর্কিত আরো খবর