রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় ফিড মিল দখলের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে জিডি

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নওগাঁয় একটি মাছ, গরু ও মুরগির খাদ্য তৈরির ফিড মিলে হামলা, ভাঙচুর, জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা এবং কর্মচারীদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান মানিকসহ তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফিড মিলের সেলস ম্যানেজার অনুপ কুমার প্রামাণিক নওগাঁ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের খয়রাবাদ এলাকায় অমৃত গ্লোবাল বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান মাছ, গরু ও মুরগির খাদ্য উৎপাদনের ফিড মিল পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির জিএম (অপারেশন) রথীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় ছয় মাসের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ভাড়া দেওয়া হয়।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাড়াটিয়াদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান মানিক (৩৮), নওগাঁ সোনারপট্টি এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে চাঁন মিয়া (৫০) এবং জোকাবিলা এলাকার মৃত আবদুস সাত্তারের ছেলে আকরাম হোসেন (৫০) রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ভাড়াটিয়াদের ফিড মিলের দখল ছেড়ে দিতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ফিড মিলে গিয়ে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানটি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, ওই সময় অভিযুক্তরা ফিড মিলের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল ও স্থাপনায় ক্ষতিসাধন করেন। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফিড মিলে কর্মরত কর্মচারীদের মারধর এবং তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন সেলস ম্যানেজার অনুপ কুমার প্রামাণিক।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্তরা তা না করে জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, চাঁন মিয়া ও আকরাম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁরা ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ঘটনার বিষয়ে নওগাঁ সদর থানায় করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর