বরিশাল প্রতিনিধি :
আধ্যাত্মিকতা ও আত্মশুদ্ধির দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারক চরমোনাই তরিকার তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল আগামী বুধবার (২৬ নভেম্বর) শুরু হচ্ছে। বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত চরমোনাই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রতি বছর অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দৈনিক এই বাংলার সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
মঙ্গলবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ জানান, বুধবার জোহরের নামাজের পর বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির প্রধান আমীরুল মুজাহিদিন পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম উদ্বোধনী বয়ান দেবেন। এর মধ্য দিয়ে মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
তিন দিনব্যাপী মাহফিলে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় মোট সাতটি করে প্রধান বয়ান অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ও সমাপনী বয়ান করবেন পীর সাহেব চরমোনাই। অন্যান্য বয়ান পেশ করবেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়েখে চরমোনাই)সহ শীর্ষ আলেমরা।
চরমোনাই জামেয়া রশিদিয়া আহসানাবাদের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে মাহফিলের সার্বিক পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেশের বিশিষ্ট আলেম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে উলামা সম্মেলন। তৃতীয় দিনে একই সময়ে হবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ছাত্র জমায়েত।
মাহফিলে আগত মুসল্লিদের সেবায় সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্যসেবায় রয়েছে একশ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতাল, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ–আনসার বাহিনীর পাশাপাশি নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯২৪ সালে যাত্রা শুরু হওয়া চরমোনাই মাহফিল ইতোমধ্যে শত বছরের ইতিহাস অতিক্রম করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চরমোনাই তরিকা দেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক ধারায় পরিণত হয়। এই ধারার নেতৃত্বেই গড়ে ওঠা ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন—বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
এই বাংলা/এমএস
টপিক