শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

৭ নভেম্বরের ইতিহাস জানাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ক্লাসের প্রস্তাব এমপি ওয়াহিদের

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্কুল-কলেজে অন্তত এক ঘণ্টার বিশেষ ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।

শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ নগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

এমপি ওয়াহিদ বলেন, ৭ নভেম্বরের প্রকৃত ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার সময় এসেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর নতুন প্রজন্মকে এ দিবসের ইতিহাস থেকে দূরে রাখা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, আগের শাসনামলে পাঠ্যবই থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সিপাহি-জনতার বিপ্লবের অধ্যায় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান আবারও দেশের মানুষের মাঝে ফিরে আসেন। পরে জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে সামনে রেখে তিনি নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। শিক্ষার্থীরা যেন দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য জানতে পারে, সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ক্লাস আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সব বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এমপি ওয়াহিদ। দেশের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জাতীয়তাবাদী চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, ২০২৪ সালের পর মানুষের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষ শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চায়। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেম কেবল বড় বড় কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রাস্তায় পড়ে থাকা বোতল তুলে ফেলা, বৃদ্ধ মানুষকে রাস্তা পার হতে সহায়তা করা, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইন মেনে চলার মধ্যেও দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল না হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর