মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারে মহিষবাহী পিকআপ ডাকাতি, সর্দার জুমনসহ গ্রেপ্তার ৫

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রায়শ্রী এলাকায় চারটি মহিষসহ একটি পিকআপ ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের সর্দার জুমন মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত নয়, ডাকাতি হওয়া পিকআপটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান মুন্না (২৬), জুমন মিয়া (২৬), নজরুল ইসলাম (২৬), রাহেল মিয়া (২৩) ও সম্রাট মিয়া (২৮)। তাঁরা সবাই মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ৬ নম্বর একাটুনা ইউনিয়নের রায়শ্রী এলাকায় ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বাসিন্দা মো. শহিদ মিয়া কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার থেকে চারটি মহিষ কিনে পিকআপে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত পিকআপটির গতিরোধ করে। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শহিদ মিয়া (৪২) মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেন। পরে গত ১৯ অক্টোবর থানায় ২৪ নম্বর মামলা হিসেবে ঘটনাটি নথিভুক্ত হয়।

মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ প্রথমে মৌলভীবাজার পৌরসভার মনু ব্যারেজ এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া খালি পিকআপটি উদ্ধার করে।

এরপর গত ১ নভেম্বর সদর মডেল থানা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাউরঘড়িয়া (চানগাঁও) এলাকা থেকে মেহেদী হাসান মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ডাকাত দলের সর্দার জুমন মিয়াসহ আরও চারজনকে পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে জানানো হয়, জুমন মিয়ার নেতৃত্বে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন সময়ে গাড়ি, গরু-মহিষসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করত। ঘটনার দিনও তিনটি মোটরসাইকেলে করে তারা মহিষবাহী পিকআপটির পিছু নেয়। পরে পুলিশের পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামিয়ে চালক ও মালিককে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মহিষসহ পিকআপটি ছিনিয়ে নেয়।

পুলিশ আরও জানায়, ডাকাতির পর মহিষগুলো বালিয়াকান্দি খেয়াঘাটসংলগ্ন একটি জঙ্গলে রাখা হয়। পরদিন সেগুলো সিলেটে নিয়ে বিক্রি করে পাওয়া টাকা চক্রের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

গ্রেপ্তারের পর আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে রাহেল মিয়া ও সম্রাট মিয়া ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানে সদর মডেল থানার এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই আশরাফুল আলম চৌধুরী, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই আবু সাঈদ মোহাম্মদ তৌহিদ ও এএসআই রানা মিয়াসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অংশ নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর