চট্টগ্রাম নগরীকে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ, সুন্দর ও সম্প্রীতিপূর্ণ ‘রেইনবো সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, এমন নগর গড়ে তুলতে চান, যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা মতের ভিন্নতা নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সবাই সমান অধিকার নিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে ‘গ্রিন, হেলদি অ্যান্ড সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। একটি নগর তখনই প্রকৃত অর্থে সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে ওঠে, যখন সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন এবং সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন।
তিনি বলেন, “আপনারা যেন নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন, নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারেন—এটি নিশ্চিত করা সিটি প্রশাসক হিসেবে আমার দায়িত্ব।”
নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামকে মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ নগরীতে পরিণত করতে চান বলেও জানান তিনি।
ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব
গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন সিটি প্রশাসক। তাঁর মতে, নাগরিকেরা যেন নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা ১৭ বছর ধরে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন এবং কথা বলার স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছি। কাউকে জোর করে সমর্থক বানানো যায় না। মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হলে কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হয়।”
নগর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান বাড়াতে বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রশাসক। তিনি বলেন, নগরীর সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ বা নগর সরকারের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফার গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ নগর গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে। এমন একটি শহর প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা মতের ভিন্নতার কারণে কেউ নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্ব
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফোরামের নেতারা চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে প্রশাসকের সফলতা কামনা করেন। পাশাপাশি নগরীর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সামাজিক, ধর্মীয় ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
জবাবে ডা. শাহাদাত হোসেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সৌন্দর্যবর্ধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। আরও পরামর্শের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সাম্য, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধনের নগর গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ঐক্য ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পার্থ প্রতীম বড়ুয়া (অপু), সহসভাপতি সাগর বড়ুয়া (ববি), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাপস বড়ুয়া, সহসাধারণ সম্পাদক অনন্ত বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক কমল জ্যোতি বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ বড়ুয়া, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক চৈতী বড়ুয়া এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রকৌশলী রানা বড়ুয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
সভায় নেতারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। পাশাপাশি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
এই বাংলা/এমএস