কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বাহাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র এক শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. মাঈন উদ্দিন কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. আতাউর রহমান ২০১১ সালের ১ জুন বাহাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি অবসরে যান।
অন্যদিকে, মো. মাঈন উদ্দিন ২০০২ সালের ১ আগস্ট বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। একই পদে মো. সিদ্দিকুর রহমান যোগদান করেন ২০০৩ সালের ১ জুন। সে হিসাবে জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকুর রহমানের চেয়ে সিনিয়র বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মাঈন উদ্দিনের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হওয়ার পর প্রচলিত পরিপত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁকেই ওই দায়িত্ব দেওয়ার কথা। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়ে এডহক কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে জুনিয়র শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছে। এতে সরকারি পরিপত্রের নির্দেশনা লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ শাহজাহানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্দিকুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” তবে পরিপত্র লঙ্ঘনের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য মো. ফরিদুল ইসলাম ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তারা আর কোনো অনিয়ম চান না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়ে থাকলে পরিপত্র অনুযায়ী বিষয়টি সংশোধন করে যথাযথ নিয়মে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগকারী শিক্ষক মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “পরিপত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার দাবিদার। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছি। পরিপত্র অনুযায়ী রেজুলেশন সংশোধন করে আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পেশাগত কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুননাহার মাকছুদা বলেন, “বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. মাঈন উদ্দিনের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই বাংলা/এমএস