মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরকারি জায়গায় নির্ধারিত বৈকালিক কাঁচাবাজারের স্থান স্থানীয় স্থায়ী কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিকেলে সাধারণ কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সেখানে বসতে না পারায় স্থানীয় ক্রেতারা টাটকা শাক-সবজি কেনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিকেলে অস্থায়ী কাঁচাবাজার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আশপাশের গ্রামের কৃষক ও ক্ষুদ্র বিক্রেতারা সরাসরি নিজেদের উৎপাদিত শাক-সবজি ও কৃষিপণ্য নিয়ে এসে বিক্রি করবেন। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতারাও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে টাটকা পণ্য কেনার সুযোগ পেতেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, বাজার বসানোর জন্য নির্ধারিত জায়গার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় স্থায়ী কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যবসায়ীদের সাটুরিয়া পশ্চিম বাজারে সরকারি জায়গা বরাদ্দ থাকলেও তারা নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে বাসস্ট্যান্ড এলাকার এই জায়গা ব্যবহার করছেন। ফলে কৃষক ও অস্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাজার বসানোর জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৈকালিক কাঁচাবাজারটি নিয়মিত চালু থাকলে আশপাশের গ্রামের কৃষকরা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারতেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পেতেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্রেতারাও প্রতিদিন তাজা শাক-সবজি ও কৃষিপণ্য কেনার সুযোগ পেতেন।
স্থান দখলের অভিযোগের কারণে বর্তমানে সেই সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা সরকারি জায়গার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সরকারি জায়গার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বৈকালিক কাঁচাবাজারটি কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পুনরায় কার্যকরভাবে চালু করা গেলে কৃষক ও সাধারণ ক্রেতা উভয়েই উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন তারা।
এই বাংলা/এমএস