ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকার এক ঠিকাদারকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর এবং পরে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী আল আমিন হাওলাদারের স্ত্রী সোনালী বেগম।
সোনালী বেগমের দাবি, তার স্বামী পুরোনো ভবন ভাঙার ঠিকাদারি কাজ করেন। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর তিনি নিজের ভাড়া বাসার আঙিনা থেকে ভবন ভাঙার সরঞ্জাম নিয়ে কাজে যাওয়ার সময় বাড়ির মালিক আল আমিন তালুকদারসহ কয়েকজন তাকে চোর বলে অভিযুক্ত করে আটক করেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে পুলিশে খবর দিয়ে থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্বামীকে মারধরের খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও বাড়ির মালিক ও তার সহযোগীরা মারধর করেন।
সোনালী বেগমের দাবি, তার স্বামীকে থানায় নেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ঝালকাঠির বিনয়কাঠির কালিয়ারগোপ এলাকার ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট দায়ের করা একটি পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৪৫৭, ৩৮০ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মামলাটির নম্বর ১৪ এবং তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৬ বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সোনালী বেগম তার স্বামীকে নির্দোষ দাবি করে পুরোনো মামলা থেকে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধরের ঘটনায় বাড়ির মালিক আল আমিন তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ সময় ভুক্তভোগীর বাবা আবুল কালাম ও মা শাহিনুর বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোনালী বেগম আরও দাবি করেন, তার ভাই রানা হাওলাদারকে গাড়িসহ গুম করে রাখা হয়েছে। তাকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এই বাংলা/এমএস