শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক তিন শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদবির-নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, আইনি ব্যবস্থার দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশকালঃ শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
সাবেক তিন শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তা মুছিবুল হাসান

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, দীপু মনি ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের দপ্তরে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা মুছিবুল হাসান ও তার বড় ভাই মইনুল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে ইউনিয়নবাসীর পক্ষে মিজানুর রহমান, সেলিম ফকির ও আল আমিন শেখ বক্তব্য দেন। বক্তারা মুছিবুল হাসানের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তদবির, নিয়োগ-বাণিজ্য ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, মুছিবুল হাসান ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা শাখায় টাইপিস্ট হিসেবে যোগদান করেন। ২০১২ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের পিএসের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) হিসেবে মন্ত্রীর দপ্তরে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে দীপু মনি এবং ২০২৪ সালে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি একই দপ্তরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়।

বক্তাদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় মুছিবুল হাসান ‘১২ সিন্ডিকেট’ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন তদবির, নিয়োগ-বাণিজ্য ও কমিশন আদায়ের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করার দাবি জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, মুছিবুল হাসান তার বাবার নামে ‘মাস্টার শাহাদাৎ হোসেন পাঠাগার’ নির্মাণ করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান নিয়েছেন। এসব অর্থের যথাযথ ব্যবহার না করে আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়। স্থানীয় নাজমুল ফকিরের পৈতৃক জমি জোর করে লিখিয়ে নিয়ে ওই পাঠাগারের কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগও করেন বক্তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঠাগারের নামে অর্থ সংগ্রহ করে তা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা মুছিবুল হাসানের নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জমি-ফ্ল্যাটসহ বিপুল সম্পদ থাকার দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে একটি ফ্ল্যাট, সাভার, মোহাম্মদপুর, টঙ্গী ও বসুন্ধরা এলাকায় স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নামে জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে প্রায় পাঁচ বিঘা জমি, করফা বাজারে তিনতলা মার্কেট, পিরোজপুরে জমি ও বাড়ি এবং গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগও করেন তাঁরা। নামে-বেনামে এবং স্ত্রী, শ্বশুরবাড়ির সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের নামে ব্যাংকে বিপুল অর্থ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এসব সম্পদের উৎস তদন্ত করার দাবি জানান বক্তারা।

মুছিবুল হাসানের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একাধিকবার ভারত সফরের কথাও মানববন্ধনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তার নিজ এলাকায় একটি প্রভাবশালী বাহিনী গড়ে তোলা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেন বক্তারা। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষকে মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবের মধ্যে রাখা হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, মুছিবুল হাসান ও তার বড় ভাই মইনুল হাসান এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একই ধরনের অভিযোগে নেছারাবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় মুছিবুল হাসান অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছিলেন, এলাকার কিছু লোক ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে এসব অভিযোগ তুলছে।

এদিকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুছিবুল হাসান রিপুর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পুনরায় পদায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি তার নিজের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে; তিনি দুর্নীতি ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা মুছিবুল হাসান ও মইনুল হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্পদের উৎস যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর