রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) মহাখালী জোনাল অফিস ৩/১ এর আওতাধীন এলাকার বাড়ি ৫৫, রোড ০৩, সেকশন ০৩, রূপালী হাউজিং, শাহআলী, মিরপুর, ঢাকার ঠিকানায় ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণাধীন ভবনের পঞ্চম তলার সাটারিং এর কাজ চলমান রয়েছে। ভবনের চতুর্দিকে অতিমাত্রায় নকশা বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) করা হয়েছে। নির্মাণ শ্রমিক ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয়নি নিরাপত্তা বেষ্টনী। ফলে আশেপাশের লোকেরা তো ঝুঁকিতে রয়েছেই, চলাচলকারী সাধারণ মানুষও রয়েছেন দুর্ঘটনার আশঙ্কায়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ বা অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্মাণ করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ৩(১) ধারা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ এর ৩ উপবিধি অনুযায়ী অনুমোদন ব্যতীত ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন, আর একই আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তির সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অন্যূন ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। এমনকি এ আইনটি মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় মোবাইল কোর্টেও এই আইনের অধীনে অপরাধ বিচার্য হওয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রাজউকের ভ্রাম্যমান মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ বহুতল ভবন ভেঙে ফেলারও ঘটনা ঘটেছে।
আইনজীবী ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবন নির্মাণের অনুমোদন তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হতে হয়, যথা ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদনপত্র এবং বসবাস বা ব্যবহার সনদপত্র। রাজউক যখন কোনো ভবনের নকশা বিচ্যুতি বা অনুমোদনবিহীন নির্মাণ শনাক্ত করে, তখন প্রথমে ভবন মালিককে লিখিত নোটিশ দিয়ে জবাবদিহির সুযোগ দেওয়া হয়; এরপর শুনানি ও তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে ভবনের নির্দিষ্ট অংশ বা সম্পূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার আদেশ দেওয়া হয় এবং মালিক আদেশ না মানলে রাজউক নিজ উদ্যোগে ভবন ভেঙে খরচ ভবন মালিকের কাছ থেকে আদায় করে। এমনকি জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা ২০০৬ সালে গেজেটে প্রকাশিত হয়ে ভবন নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর অধীনে আইনি বাধ্যবাধকতা লাভ করেছে, যেখানে নির্মাণ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বেষ্টনী সংক্রান্ত শর্ত অন্তর্ভুক্ত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যেখানে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআই বাংলাদেশও মনে করছে, ইমারত নির্মাণ আইনে দুর্ঘটনার শাস্তি সীমিত হওয়ায় আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়ছে, তাই আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি।
এদিকে মহাখালী জোন ৩/১ এর অথরাজইড অফিসার এফ আর আশিক আহমেদ এবং একই জোনের ইমারত পরিদর্শক ছামিউল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত জায়গায় গিয়ে তদন্ত করে ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলাসহ নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনের পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হোক, যাতে নির্মাণ শ্রমিক, পথচারী ও আশেপাশের বাসিন্দারা ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভবন মালিক ও ডেভেলপার কোম্পানির পক্ষ থেকে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই বাংলা/এমএস