পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মধ্য পানপট্টি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুহা. মাকসুদুর রহমানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে মো. মাসুদুর রহমানের কাছ থেকে কম্পিউটার পদে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা এবং মোহাম্মদ মাসুদ মিয়ার কাছ থেকে লাইব্রেরিয়ান পদে বিল করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মোট ৮ লাখ টাকা নেওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের চাকরি দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া সুপারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তারা। অভিযোগকারীদের দাবি, মাদ্রাসার রেজুলেশন ও মুভমেন্ট রেজিস্টার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে তিনি বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। নিয়মিত সময়ে তাকে মাদ্রাসায় পাওয়া যায় না এবং হাজিরা খাতায় একাধিক দিনের স্বাক্ষর একই দিনে করার অভিযোগও করেন তারা।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, কখনো বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় সকাল ১০টার সময় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ছুটি ভোগ করারও অভিযোগ তোলেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কয়েকজনের ভাষ্য, এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি দল মাদ্রাসায় গেলে সুপার অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুপারের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ গুরুতর। তাই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এদিকে মাদ্রাসার নতুন কমিটি গঠন নিয়েও অভিযোগ তোলেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের অনুমোদন থাকার কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। এতে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কমিটি গঠনসহ প্রশাসনিক বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।
মানববন্ধন থেকে সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণ, চাকরির প্রতিশ্রুতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং কমিটি গঠনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।
এই বাংলা/এমএস