শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলায় ৩৫ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশকালঃ শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

 

মহালয়া সামনে রেখে মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটির কাঠামো পেরিয়ে এখন প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এরপরই শুরু হবে রং-তুলির কাজ। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপকূলীয় বাগেরহাটের মোংলায় এভাবেই ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

মোংলা উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় এবার মোট ৩৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় চারটি, চাঁদপাই ইউনিয়নে চারটি, বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নে ১০টি, সোনাইলতলা ইউনিয়নে চারটি, মিঠাখালী ইউনিয়নে পাঁচটি, সুন্দরবন ইউনিয়নে দুটি এবং চিলা ইউনিয়নে ছয়টি মণ্ডপ রয়েছে।

বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি কাঠামোর ওপর খড় বাঁধার পর মাটি দিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। কোথাও মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, আবার কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। মাটির কাজ শেষ হলেই শুরু হবে রং ও তুলির কাজ।

প্রায় এক মাস আগে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হলেও এখন ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। শিল্পীদের কেউ প্রতিমার মুখাবয়ব ও অলংকারের কাজ করছেন, আবার কেউ মাটির প্রলেপ ও অন্যান্য সূক্ষ্ম কাজ শেষ করছেন।

একজন প্রতিমাশিল্পী জানান, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটিসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। এতে আগের তুলনায় প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে। তার ভাষ্য, প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতে ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। ফলে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।

মৃৎশিল্পীদের পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোও মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে এরই মধ্যে উপকূলীয় মোংলায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মোংলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোপাল কৃষ্ণ (কালু) বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে।

এই বাংলা/এমএস

এই সম্পর্কিত আরো খবর